Select Page

“ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট” কথাটি আবহমানকাল থেকে সব স্থূলদেহী ভুক্তোভোগীদের মুখ্য বিষয়গুলির একটি। অসহ্য জীবন-যাপন থেকে মুক্তি পেতে অনেকভাবে চেষ্টা করেছেন । অবশেষে ওজন কমানোর জন্য ডায়েট চার্ট এর শরণাপন্ন হয়েছেন । আসলেই, বড় একটা শরীর নিয়ে না আছে চলে শান্তি আর না আছে কাজ করে শান্তি । রাস্তায় বেরুলেও মানুষ আড় চোখে তাকায় । ভুক্তভোগীর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ।

শরীরের অতিরিক্ত ওজন যেমন মানুষের সৌন্দর্য নষ্টের কারণ, ঠিক পাশাপাশি শরীরকে করে ফেলে রোগের আখড়া ও  অসাড় । তাই এই বীভৎস জীবন থেকে পরিত্রান পেতে একজন স্থূলদেহীর আপ্রাণ চেষ্টা ।

 

কিভাবে শরীরের ওজন কমাবেন?

 

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর অনেক টেকনিক আছে, তবে সবার জন্য সব টেকনিক সমানভাবে প্রযোজো নয় । ব্যক্তির উপর নির্ভর করে শরীর এর ওজন কমানোর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় ।

এবার আমরা দেখবো কোন কোন উপায়ে শরীরের ওজন কমানো যায়? উপায় মূলত দুটি ।

এক. নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস করে; এটিই মূলত “ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট”

দুই. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করে

এই দুটি পদ্ধতি আরম্ভ করার পূর্বে আপনাকে শরীরের ওজন কমানোর জন্য ১০০% মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে । এই দুই পদ্ধতিতেই শরীরের ওজন কমানো সম্ভব । যেকোনো একটি উপায় অবলম্বন করেও যেকেউ তার শরীরের ওজন কমাতে পারে । তবে ভালো রেজাল্ট পেতে পর্যায়ক্রমে দুটি পদ্ধতিই অবলম্বন করা উত্তম । এখন আমরা ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ।

 

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট paniyo

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

 

শরীরের ওজন কমানোর উপরে মানুষের শরীরের সুস্থ্যতা ও গঠন এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মেয়াদের ডায়েট চার্ট আছে । যেমন:

১. ৩ দিনে দশ পাউন্ড এর কাছাকাছি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট,

২. ৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট,

৩. ১০ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট,

৪. ১৫ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট; ইত্যাদি ।

এবার প্রতিটি ডায়েট চার্ট আমরা সুন্দর ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব । চলুন শুরু করা যাক ।

 

 

৩ দিনে ১০ পাউন্ড ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

 

আমাদের মধ্যে অনেকেই খুব কম সময়ে ওজন কমাতে ভীষণ আগ্রহী । কাছাকাছি কোনো অনুষ্ঠান, আত্মীয়-স্বজন কারো বিয়ে-শাদী , অথবা নিজের বিয়ের আগে অনেকেই খুব ফিগার সচেতন হয়ে ওঠে । এই ডায়েট চার্ট টি মূলত সেই সব মানুষদের জন্য, যারা অতি অল্প সময়ে ভালো ফল পেতে চান । গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এই ডায়েটের নিয়ম-কানুন আপনাকে পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলতে হবে । যদি মেনে চলতে পারেন, তাহলে আপনার গঠন পূর্বের চেয়ে উন্নত হবে, শরীরের ফ্যাট বার্ন হবে, পাশাপাশি আপনি হবেন আগের চেয়ে শক্তিশালী ও সুঠাম সাস্থ্য এর অধিকারী ।

৩ দিন এর ডায়েট চার্ট টি যদি আপনার নিজের জন্য যুতসই মনে হয় ও আপনি ফলো করতে চান, তাহলে প্রথমে কোনো ফিজিশিয়ান অথবা কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে শুরু করুন । সেই সাথে আপনার শারীরিক অবস্থার কথা ডাক্তার কে বলে এই ব্যায়াম টি আপনার জন্য প্রযোজ্য কিনা তা জেনে তারপর শুরু করুন ।

 

প্রথম দিনের ডায়েট চার্ট

 

সকালের নাস্তায় খাবেন

সকাল বেলা নাস্তার টেবিলে নাস্তা করতে বসে হয়ত আপনি কিছুটা আশ্চর্য্য হতে পারেন, যে এত অল্প নাস্তা খেয়ে আপনি সারাদিন কেমন করে কাটাবেন? এত ভয়ের কি আছে, একটু কম তো খেতেই হবে, শরীর এর ওজন কমানো বলে কথা! শরীর থেকে তো আর কোনো অংশ কেটে ফেলতে পারবেন না! তাই খাবার এর দিক দিয়ে একটু তো ছাড় দিতেই হবে । এবার নাস্তার দিকে মনোযোগ দিন; নাস্তায় আপনার জন্য বরাদ্দ আছে এক পিস বড় পাউরুটি অথবা পাউরুটির টোস্ট সাথে দুই টেবিল চামচ পরিমান পি-নাট বাটার ।  আরো সাথে পাচ্ছেন গ্রেপফ্রুট এর অর্ধেক (এটি আঙ্গুর ফল নয়) এবং অবশেষে খুব যত্ন করে বানানো দুধ-চিনি ছাড়া এক কাপ গরম চা অথবা কফি

 

দুপুর বেলায় খাবেন

দুপুরের খাবার এর বেলায় ও রীতিমত খাবার দেখে মন খারাপ হবার কথা । কারণ এত অল্প খাবার খেয়ে তো একটু পরেই আবার ক্ষুধা পাবে । একটু সংযম তো করতেই হবে । তাহলে দেখে নিন দুপুরের খাবারে আপনি কি খেতে পাচ্ছেন, অবশ্যই তাজা আর টেস্টি আধা কাপ পরিমান টুনা ফিস বা টুনা মাছ, বড় পাউরুটির এক স্লাইস টোস্ট, আরো থাকছে দুধ-চিনি ছাড়া এক কাপ গরম চা অথবা কফি

 

রাতের বেলায় খাবেন

এবার ডিনার এ টেবিলে বসে আশা করি অতটা অবাক হবেন না । এবার আপনার জন্য বেশ মজাদার ও যথেষ্ট পরিমান খাবার বরাদ্দ আছে । খাবার গুলো হলো – একটা বেশ তাজা মাঝারি সাইজ এর টমেটো নয়তো এক কাপ গ্রীন বীন (যেটা আপনি বেশি পছন্দ করেন খেতে), সাথে থাকবে ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম পরিমান যেকোনো মাংস (যেমন গরু, মহিষ,  ছাগল অথবা মুরগী) যা চর্বিমুক্ত ও তাজা হওয়া বাঞ্চনীয় (মাংস সিদ্ধ ধরনের রান্না করে খেলে উত্তম ), এবং মাঝারি সাইজের একটা আপেল এর পরেও যদি খেতে মন চায়, সামান্য পরিমান আইসক্রিম খেতে পারেন; আধা কাপের বেশি নয়

 

 

দ্বিতীয় দিনের ডায়েট চার্ট

 

সকালের নাস্তায় খাবেন

প্রথম সকালের নাস্তার চেয়ে দ্বিতীয় দিনের নাস্তা খুব বেশি বৈচিত্রপূর্ণ নয় বরং আরো সাদামাটা। কিন্তু ধৈর্য্যহারা হলে চলবে না। অবশ্যই আপনাকে নিজের সাথে যুদ্ধ করে ৩ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট টি অনুসরন করে যেতে হবে।  আজ আপনি সকালের নাস্তায় খেতে পাবেন বড় এক পিস টোস্ট (পাউরুটি / ব্রেড এর), একটা বয়েলড ডিম (দেশী মুরগির ডিম), আর আধা কলা এবার অপেক্ষা করুন দুপুর পর্যন্ত।

 

দুপুর বেলায় খাবেন

দুঃক্ষিত, আপনাকে পেট ভরে খাবার মত কোনো মেনু অফার করতে পারছিনা বলে । সর্বসাকুল্যে আপনার জন্য বরাদ্দ থাকবে একটা সিদ্ধ দেশী মুরগির ডিম, সাথে কিছুটা কটেজ চীজ নিতে পারেন (এক কাপ বার তার চেয়ে সামান্য কম), আর চার বা পাঁচ পিস চিনিমুক্ত ক্র্যাকার (মোট ৬৫ ক্যালরি) দয়া করে এইটুকু খেয়ে ই দুপুরের জন্য সন্তুষ্ট থাকুন ।

 

রাতের বেলায় খাবেন

দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে গেলে কিছুটা ঝুঁকি থাকবে এটাই স্বাভাবিক । এতে শরীরের উপর বাড়তি কিছুটা চাপ ও আসবে । তাই বিষয়টিকে একটু সাবধানতার সাথে টেক-কেয়ার করতে হবে । এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ পাউন্ড বা ৪.৫ কেজি ওজন কমানোর এই ডায়েট চার্ট ফলো করে ওজন কমানো সবার কাজ নয় । তাই বিশেষ সংযমের সহিত আপনাকে ডায়েট প্লান টি ফলো করতে হবে । শুধুমাত্র দুইটা সসেজ (সর্বোচ্চ ৩০০ ক্যালরির), গাজর সিদ্ধ বা কাঁচা (আধা কাপ), ব্রকোলি (এক কাপের বেশি নয়), আধটা কলা (শবরী হলে ভালো হয়), আর একটু ভ্যানিলা আইসক্রিম (আধা কাপ এর বেশি নয়)

 

 

তৃতীয় দিনের ডায়েট চার্ট

 

সকালের নাস্তায় খাবেন

আজ অর্থাৎ তৃতীয় দিন হলো যুদ্ধের এর শেষ দিন । আশা করছি দুই দিন আগের শরীরের অবস্থা আর আজকের অবস্থার মধ্যে নিশ্চই পার্থক্য অনুভব করছেন । আজকের নাস্তায় আপনার জন্য রয়েছে চেডার চিজ (এক  স্লাইস এর বেশি নয়), চিনিমুক্ত ক্র্যাকার (চার বা পাঁচ পিস – মোট ৬৫ ক্যালরি) আর ছোট বা মাঝারি সাইজের একটা আপেল

 

 

দুপুর বেলায় খাবেন

রমজানের রোজা বা অন্য ধর্মের যারা আছেন অনেকেই উপবাস করেন। আজকের দুপুরটা না হয় সেরকমই কাটুক দুপুর বেলার খাবার খুবই অল্প, একটা সিদ্ধ মুরগির ডিম এর সাথে এক পিস পাউরুটির টোস্ট খাবার কিছুক্ষন পরে প্রয়োজন মত পানি পান করুন

 

 

রাতের বেলায় খাবেন

শেষ বেলার খাবারে ও বরাবরের মত সামান্য খাবারই খেতে পাচ্ছেন । চিন্তা কি, কাল থেকেই তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন । তবে যদি আগের মত অনিয়মে চলেন বা খাবার খান, তাহলে কিন্তু আবার অল্প সময়েই ওজন বেড়ে যাবে । তাই শরীরের ওজন যাতে না বাড়ে সে জন্য কোনো ফিজিশিয়ান অথবা কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর অবজারভেশনে থেকে দীর্ঘ মেয়াদী ডায়েট প্লান অনুসরণ করতে হবে । ফলে যেমন আপনার শরীর থাকবে সুস্থ্য, তেমন স্লিম ফিগার নিয়ে আপনি কাটাবেন আনন্দময় জীবন । চলুন দেখি রাতের খাবার আপনাকে কি দেয়া হচ্ছে? টুনা মাছ এক কাপ এর মত,  একটা বড় কলার অর্ধেক পরিমান, আর সাথে সামান্য পরিমান আইসক্রিম খেতে পারেন (আধা কাপের বেশি নয়) ।

 

 

 

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট fol

৭ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

 

এই ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট টি একটি আশ্চর্যজনক ডায়েট চার্ট। কেননা এর  বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অনুসরনকারীকে তার শরীরের অতিরিক্ত ওজনের ৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমাতে আশ্চর্য্যজনকভাবে ফলপ্রসু । প্রতিটি দিন শেষে আপনি অনুভব করবেন এক নতুন অভিজ্ঞতা। এখানে ম্যাজিক্যাল কিছুই নেই, পুরোটাই আপনার সংযম আর সাধনার ফসল । তবে এই ডায়েট প্লান টি ফলো করার পরে অবশ্যই আপনাকে নিয়ম মাফিক ব্যালেন্সড ডায়েটের করে শরীরের ওজনকে কন্ট্রোলে রাখতে হয়। আর এই সাত দিন আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। চলুন এবার দেখা যাক কোন দিন কি খাবেন।

 

দিন #১

সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি খাবেন ১ থেকে দুই গ্লাস। সারাদিন যত পারেন যেকোনো ফল খাবেন। শুধু কলা খাওয়া যাবে না। সব ধরণের রসালো ফল বেশি খেতে হবে।

 

দিন #২

দ্বিতীয় দিনের খাবারে আপনার জন্য থাকবে প্রধানত সবজি । সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপ খেতে পারেন অথবা সামান্য তেল এ সিদ্ধ সবজি ও খেতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের সবজি সিদ্ধ করে সালাদ বানিয়ে ও খেতে পারেন।

 

দিন #৩

তৃতীয় দিনে ও খাবার এর যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকবে. খাবেন শুধু সবজি ও ফল। অবে আগের দুই দিনের মত। শুধু কলা  খাওয়া যাবে না।

 

দিন #৪

চতুর্থ দিনের খাবার মেনু হলো কলা, দুধ ও সবজি স্যুপ। কলা খাবেন দুই হালি। দুধ ৩ গ্লাস বা ১.৫ লিটার। আর সবজি স্যুপ খাবেন ১ বাটি।

 

দিন #৫

পঞ্চম দিনে আপনার জন্য মজাদার খাবার বরাদ্দ রয়েছে  আর তা হলো মাংস । তবে এটা ভুনা বা অতিরিক্ত মসলা দিয়ে রান্না করা মাংস না। অল্প পরিমান মাংসের সাথে বেশি পরিমান লাউ, কুমড়া বা টমেটো দিয়ে অল্প মশলা দিয়ে রান্না করে খাবেন।

 

দিন #৬

ষষ্ঠ দিনে খাবার এর ব্যাপারে বেশ স্বাধীনতা থাকবেন আপনি । যেকোন মাংস আর সবজি ইচ্ছে মতো খেতে পারেন।

 

দিন #৭

সর্বশেষ দিনে তিন বেলা ই ভাত বা রুটি খেতে পারবেন। তবে পাশাপাশি অবশ্যই সবজি, যেকোনো ফল ও সম্ভব হলে জুস্ খাবেন। বেশি বেশি পানি পান করবেন।

 

যেহেতু এই ডায়েট চার্টটি ফলো করলে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ আসতে পারে। তাই এটি ফলো করার ব্যাপারে অবশ্যই কোনো ফিজিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে ফলো করবেন।

 

 

 

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট Salad

 

১০ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

 

মাত্র দশ দিনে আপনি আপনার ডায়েট কন্ট্রোল করতে পারেন।  আর এটি একটি অতি কার্যকরী ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট। চার্ট টি টানা দশ দিন ফলো করলেই দেখবেন ফল পেতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন একই নিয়মে খাবার খেতে হবে।

সকালে যা খাবেন: ২-৩ টি রুটি সাথে সবজি ১ বাটি

দুপুরে যা খাবেন: ভাত খাবেন অর্ধের পরিমান, বাকি অর্ধেক খাবেন সবজি। যেমন সালাদ, শশা, টমেটো, গাজর সিদ্ধ, বাঁধাকপি ভাজি, শাক ইত্যাদি।

রাতে যা খাবেন: ৩-৪ টা রুটি খাবেন, সাথে সবজি।

এই ১০ দিনের জন্য যেসব খাবার বারণ: এই ডায়েট চার্ট টি ফলো করার ক্ষেত্রে সমস্ত রকমের তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার সেই সাথে মিষ্টি দ্রব্যাদি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার বারণ করা হয়েছে। চা খাবার অভ্যাস থাকলে তাও চিনি ছাড়া খেতে হবে।

 

১০ দিন যদি একটানা এভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন, দেখবেন ম্যাজিক এর মতো আপনার ওজন কমতে শুরু করেছে।

 

 

 

১৫ দিনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

 

এই ওজন কমানোর ডায়েট চার্টটি মেনে চললে ১৫ দিনে আপনি আপনার ওজন কমাতে পারেন দুই থেকে আড়াই কেজি । এই ডায়েট চার্টটি যেমন নিরাপদ, তেমন নেই কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও। শরীর এর উপর অতিরিক্ত কোনো চাপ ও পড়েনা । তাই অনায়াসে যে কেউ এই ১৫ দিনের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট টি ফলো করে ভালো ফল পেতে পারে।

 

ডায়েট চার্ট টি নিম্নরূপ

 

ভোর বেলা যা খাবেন

খুব ভোর বেলা বিছানা ছেড়ে (মুসলমান হলে ফজর এর নামাজ পড়ে তারপর) খালি পেটে এক গ্লাস পানি নিন।  পানি টা অবশ্যই কুসুম গরম হতে হবে।  এবার একটা আস্ত লেবু এর রস এই কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে এই এক গ্লাস লেবু-পানি  পান করুন।

সকালের নাস্তায় যা খাবেন

দুটি লাল আটা দিয়ে তৈরী মাঝারি সাইজ এর রুটি, সাথে পরিমান মতো সবজি ও এক বাটি সালাদ। আর একটা ডিম সিদ্ধ করে তার সাদা অংশ খাবেন।

বেলা ১১ টার দিকে খাবেন

একটা টক জাতীয় ফল। বাজারে যে টক ফল পাওয়া যায় তা ই খেতে পারেন।

দুপুরের খাবার যা খাবেন

লাল চাল দিয়ে রান্না করা ভাত এক কাপ পরিমান, পরিমান মতো সবজি (এক বাটির বেশি নয়), সপ্তাহে ৪ দিন এক পিস্ করে মাছ (সামুদ্রিক ও দেশী মাছ মিলিয়ে খাবেন) আর শেষের তিন দিন খাবেন মুরগির ঝোল সাথে মাংস এক পিস্ করে, পরিমান মতো পাতলা ডাল, আর সালাদ।

বিকেলের নাস্তায় যা খাবেন

এক কাপ গরুর দুধ অথবা এক কাপ র-টি (লাল চা) অবশ্যই চিনি ছাড়া  সাথে ২-৩ পিস্ চর্বি-বিহীন বিস্কুট খেতে পারেন। অথবা যদি চা এর অভ্যেস না থাকে তাহলে চিনি ছাড়া আধা গ্লাস দই (অর্থাৎ টক দই) বা ঘোল বা মাঠা খেয়ে নিতে পারেন। ঘোলটা অবশ্যই ননী মুক্ত হতে হবে।

রাতে যা খাবেন

দুপুরের আর রাতের খাবারে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শুধু মাংস খাবেন না আর ছোট মাছ খাবেন। ভাত এর পরিবর্তে রুটি খেতে পারলে আরো ভালো হয়। রাতের খাবার খাবার সাথে সাথেই ঘুমুতে যাবেন না।  অর্থাৎ রাতের খাবারের কমপক্ষে দুই ঘন্টা পরে ঘুমুতে যাবেন।

রাতে ঘুমানোর পূর্বে করণীয়

এক গ্লাস দুধ খাবেন (ননীমুক্ত)।

 

বিশেষ কথা

প্রচুর পানি খেতে হবে; চব্বিশ ঘন্টায় কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ গ্লাস পানি খাবেন। আলু কম খাবেন। চর্বি জাতীয় খাবার, মিষ্টি জাতীয় খাবার ও খাবারের সাথে বাড়তি কাঁচা লবন খাবেন না। অবস্যই চকলেট ও কোল্ড ড্রিঙ্কস এভোয়েড করবেন। খাবার খাওয়ার সাথে সাথে চা বা কফি খাবেন না, ঘন্টা খানেক পরে খেতে পারেন।

যদি এভাবে নিয়ম মেনে এই ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট টি ফলো করতে পারেন, খুব স্বাভাবিক ভাবে আপনি আপনার শরীরের উপর কোনো বাড়তি প্রভাব না ফেলে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে পারেন।

 

 

 

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট exercise

শরীরীক ব্যায়াম এর মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো

 

শরীরের সৌন্দর্য কে ফিট রাখতে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল পেটে জমে থাকা ফ্যাট বা চর্বি। মোটকথা শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা ফ্যাট সমস্যা আপনার জীবনে সত্যিকার অর্থেই একটি অভিশাপ। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট ফলো করার পাশাপাশি আপনাকে কিছু শারীরিক ব্যায়াম ও করতে হবে। তাহলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন।

খাবার নিয়ন্ত্রণ এর সাথে সাথে ভীষণ গুরুত্বপূর্ন হল নিয়মিত শরীরচর্চার মাদ্ধম্র পেতে জমে থাকে মেদ / চর্বি কমানো।  চলুন দেখা যাক কিছু কার্যকরী ব্যায়াম যা আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্রুত সাহায্য করবে।

পেটের মেদ কমাতে অনেক কেই দেখা যায় বেলি-স্ট্রোক টাইপ এর ব্যায়াম করতে। এই ব্যায়াম টি শরীরের ওজন কমাতে অতটা ফলপ্রসূ নয়। কারণ ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন সমস্ত শরীরের ব্যায়াম।

 

 

ব্যায়াম #১

 

প্রতিদিন ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে ৪০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট স্লো জগিং করুন অথবা দ্রুত হাঁটুন। এর মাধ্যমে রক্তের ফ্যাট শেষ হয়ে শরীরের জমে থাকে ফ্যাট গলতে শুরু করে।  তাই ৪০ -৪৫ মিনিট হাঁটার পরে আরো ১০-১৫ মিনিট হাঁটুন।

বিশেষ কথা: হাঁটা শুরু করে প্রথম দিন থেকেই পৌনে একঘন্টা হাঁটবেন না।  দশ মিনিট থেকে শুরু করুন। এরপর বাড়ান এবং বাড়াতে বাড়াতে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বাড়ান। সর্বোচ্চ  এক ঘন্টা পর্যন্ত স্লো জগিং করুন অথবা দ্রুত হাঁটুন। আশা করি ভালো ফল পাবেন।

 

 

ব্যায়াম #২

 

প্রতিদিন রাতের বেলা ঘুমুতে যাবার আগে ১০ মিনিট স্বাভাবিক ভাবে হাঁটুন। আজই শুরু করুন। ১-২ সপ্তাহের মধ্যে ই ফলাফল টের পাবেন ইন-শা-আল্লাহ।

মূল কথা হলো শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট ফলো করার পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই করা প্রয়োজন। তাহলেই সবচেয়ে এফেক্টিভ ফলাফল পাওয়া সম্ভব, যদি আল্লাহ তায়ালা চান।

 

সবার সুস্থ্যতা কামনায় ইতি টানছি। আগামীতে কথা হবে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে। যদি লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে অবশ্যই শেয়ার করুন; হয়ত কেউ খুঁজছে যে তথ্য এখানে আছে।

Show Buttons
Hide Buttons