Select Page

প্রত্যেকেই একটি সুস্থ্য জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু একটি সুস্থ জীবন অর্জন এবং তারপর তা ধরে রাখার রাস্তায় হাঁটাতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ এটি একটি রুটিন মাফিক কাজ যা সারাজীবন মেনে চলতে হয়। আর সেজন্য কিছু যুগান্তকারী স্বাস্থ্য টিপস মেনে চলতে আপনার দৃঢ়তা প্রয়োজন ।

স্বাস্থ্য কি?

একটি জীবন্ত অর্গানিসম এর কর্মক্ষমতা এবং বিপাকীয় কার্যকারিতা সামগ্রিক পর্যায়ের দক্ষতাকে স্বাস্থ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।

বিশেষভাবে মানুষের ক্ষেত্রে দেখলে, মানুষের শারীরিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হওয়ার সময় স্ব-পরিচালনার ক্ষমতাকে স্বাস্থ্য বলা যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্যবিধানকে “সম্পূর্ণ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুশৃংখল অবস্থা বলে নয় বরং রোগমুক্ত শরীর” বলে উল্লেখ করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য টিপস

আপনি যদি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের তাৎক্ষণিক উন্নতি চান তবে আপনার জন্য কয়েকটি সহজ পরামর্শ:
• প্রচুর পানীয় পান করুন। তরল, বিশেষ করে পানি এবং ক্যাফিনমুক্ত পানীয় মস্তিষ্ক এবং শরীরের কাজ করতে সাহায্য করে। আর যদি পানীয় নিঃসরণ করা হয় তাহলে আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন এবং আপনার শরীরের বিপাকতা কমে গিয়ে একটি বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হবে।

• প্রক্রিয়াকৃত খাবার এবংস্ন্যাকস এড়িয়ে চলুন। কৃত্রিম, রাসায়নিক সমৃদ্ধ খাবারগুলি আপনার শরীরকে সময়ের সাথে সাথে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা মূত্র নিরোধক হিসেবে তৈরী করবে। উচ্চ ফ্রুক্টোজ সিরাপ এবং চিনি বিপাক কে প্রভাবিত করে এবং নিম্ন স্তরের প্রদাহ সৃষ্টি করে, এছাড়া ভিটামিন এ এবং ডি এর মাত্রা, ম্যাগনেসিয়াম, তামা ও লোহাকে প্রভাবিত করে। এই নিম্নগামী প্রক্রিয়া মানসিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সৃষ্টি করে ।

• পর্যাপ্ত ঘুমান। ঘুম ব্রেইন এর স্বাস্থ্যের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। অপিরিমিত ঘুম, শারীরিক সমস্যা যেমন দুর্বল ইমিউন সিস্টেম এবং মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যা যেমন উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা এর সাথে সম্পর্কিত। ঘুম স্মৃতি শক্তির সুস্থ্যতা নিশ্চিত করে।

শিশু স্বাস্থ্য টিপস

বাচ্চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন হয়। বাচ্চাদের ভাল মানসিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

• আপনার বাচ্চাদেরকে সবার সাথে একসঙ্গে এবং বিশেষভাবে বয়স্কদের সঙ্গে খাবার খেতে উৎসাহিত করুন। পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খেলে বাচ্চারা সাচ্ছন্দ্য বোধ করে ও উপভোগ করে। যা শিশুদের মানসিক বিকাশ এ সহায়তা করে।

• প্রতি সপ্তাহ বা মাসে একটি নতুন সুস্বাদু খাদ্য, বিশেষ করে সবজি ও ফল দিতে চেষ্টা করুন। এটি মজাদার করে তৈরী করুন এবং বচ্চারা কোন খাদ্য বেশি পছন্দ করলো তা নোট করে রেটিং করুন।

• খাওয়ার সময় সবরকম গ্যাজেট, ফোন এবং টিভি বন্ধ রাখুন। এইভাবে খেলে বাচ্চাদের স্থূলতা ঝুঁকি কম থাকবে।

• আপনার বাচ্চা যদি অনেক অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে অভস্ত হয়, তবে এইগুলি সময়ের সাথে সাথে কমাতে চেষ্টা করুন। সুগন্ধি প্রোটিন / চর্বিযুক্ত বিকল্পগুলি ব্যবহার করুন যেমন বাদাম, মাখন , এভোক্যাডোস, চিজ, ডিম, বীজ, গ্রীক দই, ডার্ক চকোলেট বা মরিচের মতো সামান্য প্রাকৃতিক শর্করা, মরিচ, গাজর ও প্রচুর পরিমাণে শাক-সব্জি ।

 

স্বাস্থ্য টিপস

স্বাস্থ্য টিপস: ওজন কমানো

• খাবারের ক্যালোরি হিসেবের তুলনায় আপনার খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ অত্যাবশ্যক। তা যেকোনো চিনিযুক্ত, চর্বিহীন, প্রক্রিয়াজাত বিস্কুটের চেয়ে ভালো।

• ভালো করে খেয়াল করুন, ওজন কমাতে গিয়ে আপনি হরমোনের বা পুষ্টির ভারসাম্যহীনতার সাথে লড়াই করছেন না তো? যদি তাই হয় তাহলে আপনার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে এবং সত্যিই আপনি নিজের উপর আস্থা হারাতে পারেন।

• সর্বদা আপনার খাদ্য ভাল চিবিয়ে খান এবং আপনার খাবারটি এনজয় করুন, সেক্ষেত্রে আপনি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে খান। তাহলে আপনার মুখের মধ্যকার এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করবে এবং অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে সঠিক সংকেত পাঠবে।

• কম চর্বি / চিনি প্রক্রিয়াকৃত খাবার বর্জন করুন যেখানে সম্ভব।

• পরিমিত পুষ্টির জন্য সব রকমের খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

• ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে বর্জন করুন।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১০ টি স্বাস্থ্য টিপস

১. একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিকল্পনা

মানুষ যখন “সঠিক খাবার খাওয়া” বা “স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া” নিয়ে চিন্তা করে, তখন বিষয়টিকে জটিল করে ফেলে। তার মানে এই নয় যে আপনি একটি সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ শুরু করেন। আপনি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা অনুসরণ করতে নিজেকে ক্ষুধার্ত রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি শুধু মনে রাখবেন যে অতিরিক্ত ডায়েটিং কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নয়, আর এমন প্ল্যান নিয়ে আপনি বেশি দূর এগোতেও পারবেন না।

এটি একটি অপরিহার্য বিষয় যে আপনি এমন একটি পুষ্টি পরিকল্পনা বাছাই করুন যা আপনার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে এবং সেইসাথে আপনাকে একটি স্বাস্থ্যকর ট্র্যাকে থাকতে সাহায্য করে।

সব মাংস, শাক-সবজি, উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধ, বাদাম, গরুর মাংস এবং ভোজ্য তেল আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। আর হ্যাঁ, প্রত্যেক দেশের অনেক সুস্বাদু খাবার আছে, যা অন্যদের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। তবে অবশ্যই গম এবং আলুর মত জিনিষ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য টিপস plan

২.বেশি নড়াচড়া / মুভ করুন

একজন ব্যক্তির প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরণের কাজ/ পরিশ্রম/ ক্রিয়াকলাপ করা উচিত। এতে শরীরে স্বাভাবিক রক্ত ​​প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে একটি জিমে যোগদান করুন। যদি আপনি এটি না করতে পারেন, তাহলে নির্ভরযোগ্য বাসায় পেশাদারদের কাছ থেকে অনলাইনে ওজন কমানোর অনুশীলন করতে পারেন। আপনি সক্রিয় থাকার জন্য সচরাচর আপনার বাড়ি পরিষ্কার করতে পারেন।
এ ছাড়াও, কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন, যেমন সুযোগ হলে লিফ্টের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন বা জগিং করুন।

৩. ধূমপান বর্জন করুন

একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখার জন্য একজন ব্যক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলির মধ্যে এটি একটি। ধূমপান না করা আপনার শরীরকে টক্সিন মুক্ত রাখবে এবং ক্যান্সার এর মতো ক্ষতিকারক রোগ থেকে রক্ষা করবে।

৪. নিয়মমতো ঘুমানো

একটি সুন্দর লাইফস্টাইল এর ক্ষেত্রে রাতের স্বাস্থ্যকর ও নিয়ম মাফিক ঘুম অত্যাবশ্যক।
কত ঘুম দরকার? প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯ ঘন্টাও হতে পারে। এতে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়, শরীর প্রাণশক্তি ফিরে পায়, তাই নবউদ্যমে আবার কাজ করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে নানারকম স্বাস্থ্য সমস্যা ও মানসিক সমস্যা তৈরী হয়।

৫. প্রতিরোধমূলক হেল্থ স্ক্রীনিং

আপনার ডাক্তারের সাথে ফলো-আপ বা নিয়মিত চেকআপ করার মাধ্যমে এটি অর্জন করতে পারে। এতে করে আপনি নিয়মিত আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে আপডেট থাকতে পারবেন, সেই সাথে শরীরে কোনো সমস্যা বা জটিলতা তৈরী হচ্ছে কিনা তা শুরুতেই জানতে পারবেন। প্রতিরোধ সবসময় নিরাময়ের চেয়ে ভাল, হেল্থ স্ক্রীনিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সক্রিয় হতে পারবেন।

৬. মানুষের সাথে সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখুন

পারস্পরিক বন্ধন একটি ভালো সামাজিক সার্কেল তৈরী করে যা প্রতিটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ভীষণ জরুরি। আপনার মানসিক এবং শারীরিক রিল্যাক্স এর জন্য অন্যদের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চাপের সময়।

৭. পানি পান করুন

পানির গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি। বেশির ভাগ সময় পানি পান না করে আমরা চা বা কফি পান করি। এটা ঠিক নয়। শরীর সুস্থ রাখতে পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন, কম করে হলেও ২ লিটার।

৮. একটি শখ নির্বাচন করুন

শখ একটি জীবনের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে। যদি আপনার কোনো শখ না থাকে তাহলে আজই একটি শখ নির্বাচন করুন। এছাড়া নতুন কিছু করতে কখনো দ্বিধা করবেন না। তাহলে সবসময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন।

৯. নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করুন

নিজের দিকের তাকান। আপনার জন্য আল্লাহর এবং মানুষের অবদান সমূহ স্মরণ করুন। জীবনে যা অর্জন করেছেন তার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, বিনয়ী হউন। জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এই সব কিছু আপনাকে মানসিক প্রশান্তি এনে দেবে যা একজন মানুষের মানসিক সাস্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

১০. পরোপকারী হউন

আত্মকেন্দ্রীকতা অনেক ক্ষেত্রেই ভালো ফল দেয়না। তাই সবার প্রয়োজন ও কষ্ট বুঝেসাধ্য মতো সবার উপকার করার চেষ্টা করুন। এতে সবার সাথে আপনার একটা ভালো সম্পর্ক তৈরী হবে, আপনার জন্য আপনি সমাজে অনেক শুভাকাঙ্কী খুঁজে পাবেন। এটা আপনার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কার্যর্করী ভূমিকা পালন করবে।

উপরে উল্লিখিত ১০ টি স্বাস্থ্য টিপস গুলো একজন মানুষের সুস্থ্য থাকার জন্য এমনভাবে সাহায্য করবে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই নির্দ্বিধায় আজই আপনার যাত্রা শুরু করতে পারেন।

 

আরো পড়ুন:
Show Buttons
Hide Buttons